আট বছর পর টেস্ট দলে ফিরলেন এনামুল হক

avatar

bijoy-sm-20171216050341.jpg
IMG

বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের টপঅর্ডার ব্যাটিং এর সমস্যা যেনো কিছুতেই দূর হচ্ছে না। টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটস ম্যানের ডিফেন্স করার ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। যেটা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে খুব কম দেখা যায়। শেষ ছয় মাসে ব্যাটসম্যানরা কোনো ভালো কিছু করতে পারে নি। চলতি বছরে বাংলাদেশের ব্যাটিং গড় দেখা গেছে সর্বনিম্ন। শেষ ৭ ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং গড় মাত্র ২৩। এটাই বলে দেয় ব্যাট হতে বাংলাদেশ দল কতটা ব্যার্থ। টিম একাদশে বার বার পরিবর্তন করেও যেনো কোনো কাজ হচ্ছে না। টেস্ট ক্রিকেটে মমিনুল হক এর পরিবর্তে সাকিব আল হাসানকে অধিনায়কত্ব দেওয়ার পরও কোনো আশার আলো দেখছে না বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের সফল ওপেনার তামিম ইকবাল এর সাথে ওপেনার হিসেবে তালে তাল মিলিয়ে খেলতে পারছে না কেউই। প্রথমদিকে ভালো খেললেও শেষ পর্যন্ত শক্ত হাতে ব্যাট ধরতে পারছে না কেউ। এর মধ্যে এনামুল হক বিজয় ওপেনার হিসেবে ব্যাট হাতে আসার আলো দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু ভাগ্য যেনো সহায় হলো না। এই ওপেনারের বাংলাদেশ জাতীয় দলে অভিষেক হয় ২০১২ সালে ওডিআই ফরমেটে। অভিষেক ম্যাচেই ওয়েস্টইন্ডিজ এর বিপক্ষে ১২০ রানের লম্বা ইনিংস খেলে এই ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ারের শুরুতেই দুর্দান্ত ব্যাটিং আর ৩ টা সেঞ্চুরি করে আমাদের সবার হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের যেনো আসার আলো হয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে হাতে চোট লাগে তার। ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে পড়েন তিনি।

দীর্ঘ আট বছর পর টেস্ট দলে জায়গা পেলেন এনামুল হক বিজয়। ইলিয়াস আলী রাব্বির ইনজুরির কারণে টেস্ট দলে খেলার সুযোগ পান জাতীয় দল থেকে ছিটকে পরা এই ওপেনার। ২০১৩ সালে টেস্ট ক্রিকেটে তার অভিষেক হয়। আর শেষ ম্যাচ খেলেন ২০১৪ সালে। টেস্টে মাত্র ৪ টা ম্যাচ খেলার সুযোগ পান তিনি। এরপর ২০১৫ সালেই ইনজুরির কারণে জাতীয় দলে আর খেলার সুযোগ হয় না। টেস্ট ক্রিকেটে তেমন একটা ভালো করার সুযোগ পান না তিনি। ৪ ম্যাচ এ ৮ ইনিংস ব্যাট করার সুযোগ হয় তার। ব্যাট হাতে সবমিলিয়ে করেন ৭৩ রান। এরপরই তার টেস্ট ক্রিকেটের ক্যারিয়ার বন্ধ হয়ে যায়।

তবে চলতি বছরে ২০২২ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তিনি। এই আসরে তিনি করেছেন রেকর্ড পরিমাণ রান। ১৫ ম্যাচে তিনি করেছেন ১১৩৮ রান। তার মধ্যে করেছেন ৩ টি সেঞ্চুরি আর ৯ টি হাফ সেঞ্চুরি। তার ১ ম্যাচে সর্বোচ্চ রান সংখ্যা ১৮৪, আর স্টাইক রেট ছিলো ৯৮.৬১। সত্যি পুরো আসরে তিনি দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে গেছেন। এবারের আসরটা যেনো তিনি একাই রাজত্ব করেছেন।

দীর্ঘ আট বছর অপেক্ষার পালা শেষ করে আবারও বাংলাদেশ জাতীয় টেস্ট একাদশে জায়গা করে নিলেন বিজয়। শেষবারের মত সাদা জার্সিতে খেলেছিলেন ২০১৪ সালে সেন্ট লুসিয়ায়। আট বছর পর তিনি আবার সাদা জার্সিতে ফিরলেন সেই একই ভেনু সেন্ট লুসিয়ায়। বাংলাদেশ টেস্ট দলের এই বিপর্যয়ের সময় তিনি দলকে কতটা সাপোর্ট দিতে পারেন সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। দীর্ঘ সময় পর জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন বিজয়, বাংলাদেশ দলের জন্য এবং বাংলাদেশী সমর্থকদের জন্য আসলেই অনেক আনন্দের।

FB_IMG_1656085562674.jpg
IMG



0
0
0.000
0 comments