গ্রাম্য ফুটবল প্রতিযোগিতা দেখতে লাখো মানুষের ঢল ।।

IMG_20220715_173554-01.jpeg

হাতে বল,পায়ে বল এর নাম ফুটবল। এই কথাটা গ্রাম বাংলার ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজনে সবার কাছেই অনেক পরিচিত। বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হাডুডু । কিন্তু হাডুডু খেলা নিয়ে বাঙালির যতটা না আবেগ কাজ করে এর থেকে অনেক বেশি আবেগ ও আগ্রহ কাজ করে ফুটবল খেলা নিয়ে। আমরা বাঙালি জাতি যে কতটা ফুটবল প্রেমী এটা আজকের এই ফুটবল প্রতিযোগিতা দেখতে আসা লাখো মানুষের ঢল না দেখলে বোঝা যাবে না। গ্রামের একটা টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতায় এত দর্শক হবে আমি কখনো ভাবি নি। এটা সত্যি বিস্ময়কর।

IMG_20220715_173537-01.jpeg

তবে এটা যদি একটা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতা হতো এত দর্শক হতো না। যতটা এই ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতায় হয়েছে। আমি কখনো গ্রামের কোনো ক্রিকেট টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতায় এত দর্শক দেখি নি। ছোটবেলায় দেখতাম আমাদের গ্রামে যখন কোনো ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা হতো আশেপাশের কয়েক গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ দেখতে আসতো। ছোটোবেলার একটা কথা মনে আছে যে, একবার এক ফুটবল প্রতিযোগিতায় এত দর্শক হইছিলো যে, পুরো মাঠ ভর্তি মানুষ আবার কলেজের বারান্দার সাদে ও মানুষে ভরপুর ছিলো। আর এত মানুষ হয়েছিল যে বারান্দার সাদ ভেঙে পড়ে গেছিলো মানুষজন। আজকেও সেই আগের দিনের মতো দেখা মিললো লাখো মানুষের ঢল। এখনো গ্রাম বাংলার মানুষের মধ্যে ফুটবল প্রেম বেচেঁ আছে দেখে ভালো লাগলো। তবে এত দর্শকের মধ্যে বেশির ভাগই ছিল বয়স্ক লোক। বয়স্কদের মধ্যে এখনো ফুটবল খেলা দেখার প্রবণতা অনেক বেশি কাজ করে।

আজকে সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ থানার জামতৈল নামের গ্রামে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই ফাইনাল খেলায় অংশগ্রহণ করে সিরাজগঞ্জ সদর ফুটবল একাদশ ও সারটিয়া ফুটবল একাদশ। এই দুই দলকেই কয়েকটি রাউন্ড জিতে তারপর এই ফাইনাল খেলায় আসতে হয়েছে। এটা বলাই বাহুল্য যে দুই দলই অনেক শক্তিশালী এবং খেলা হবে সমানে সমানে। যেমন বাঘে সিংহে লড়াই। সিরাজগঞ্জ জেলার সব সেরাসেরা খেলোয়াড় খেলেছে এই দুই দলে এবং শুনলাম বাইরে থেকেও হায়ার করে আনা হয়েছে খেলোয়াড়। তাই হয়তো অত লোক ভিড় করেছে খেলা দেখতে।

IMG_20220715_174158-01.jpeg

খেলার প্রথম দিক থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেছে সারটিয়া ফুটবল একাদশ। প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যেই গোল করে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকে সারটিয়া ফুটবল একাদশ। সারটিয়া ফুটবল একাদশের কাছে যেন কোনো পাত্তাই পায় না সিরাজগঞ্জ সদর ফুটবল একাদশ। একে একে ৪ গোল করে বিজয়ী ট্রফি ছিনিয়ে নেয় সারটিয়া ফুটবল একাদশ। এই খেলার প্রথম পুরস্কার অর্থাৎ বিজয়ী দলের জন্য ছিলো ফ্রিজ এবং রানার্সআপ দলের জন্য ছিলো মনিটর।

আজকাল এরকম ফুটবল খেলার আয়োজন দেখাই যায় না। শিশু কিশোরদের এখন মাঠে বল নিয়ে খেলতে দেখা যায় না। মাঠগুলো দেখা যায় এখন ফাঁকাই পরে থাকে অবহেলায় অযত্নে। মাঠে এখন সবাই মিলে গোল হয়ে বসে আড্ডা দেয় অথবা মোবাইল হাতে গেম নিয়ে ব্যাস্ত সবাই। আমরা যখন ছোটবেলায় মাঠে খেলতাম দেখা যেত একটা মাঠের মধ্যে কয়েকটা দল খেলতো। মাঠের একটা কোণও যেনো ফাঁকা থাকতো না। একটু দেরি করে মাঠে গেলে জায়গা পেতাম না। মাঠে জায়গা ধরার জন্য আগে আগে মাঠে যেতাম। আর এখন মাঠে খেলার মতো কেউ থাকে না। এখনকার শিশু কিশোর মোবাইলে গেম খেলা নিয়ে ব্যাস্ত।

IMG_20220715_174203-01.jpeg



0
0
0.000
0 comments